Comments
কাছিমের খোঁজে শীলবুনিয়া সৈকতে দুই রাত

তাবু, কেয়া বন ও সমুদ্র।

নির্জন সৈকতে তাবু বাস

বিকাল সাড়ে চারটা, সূর্য হেলে পড়ছে পশ্চিম আকাশে। বালিয়াড়ির উপরটায় হালকা ঝোপঝাড়, গাছের ফাঁক দিয়ে সূর্যের রশ্মি এসে পড়ছে নুরুল হকের বাড়ির উঠানে। বাড়ির পশ্চিম সীমানা ঘেঁষেই সৈকত। দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছি নুরুল হকের জন্য, যিনি দেখিয়ে দেবেন কোথায় তাবু ফেললে জোয়ারের পানি আসবে না। আজই তার সঙ্গে পরিচয় হলো।

 

তাবু খাটবে তার বাড়ি ঘেঁষা এই নির্জন সৈকতেই। অর্ধচন্দ্রাকৃতির অপূর্ব সুন্দর এক সৈকত। দ্রুতই বেলা ফুরিয়ে আসছে, তাবু খাটানোর তাড়া। মিনিট কুড়ির মধ্যেই তাবু খাটানো হয়ে গেল। তাবুর পেছনটায় ছেয়ে আছে ঘন কেয়া বন। পাশেই কয়েকটি কুকুর লাফালাফি করছিল। দূরে সৈকতে শুকানো হচ্ছিল ধান, প্রাকৃতিক বাতাসেই ধানের চিটা ছাড়াচ্ছিলেন কৃষকেরা।

 

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামে, সূর্য মিলিয়ে যায় সমুদ্রে। ঘন অন্ধকার নেমে আসে চারদিকে। তখনও চিটায় আগুন ধরিয়ে ধান উড়িয়ে যাচ্ছিলেন তারা। দূরে জেলে নৌকায় টিমটিমে আলো জ্বলছে সমুদ্রবক্ষে; অন্যদিকে আকাশ ছেয়ে গেছে তারায় তারায়—যেন তারার হাট বসেছে। সমুদ্রের ঢেউ ভাঙছে তাঁবু থেকে খানিকটা দূরে। মাঝেমধ্যে ঢেউয়ের সঙ্গে ভেসে আসছে বায়োলুমিনেসেন্স।

গোধূলির আলোয় চিটা ছাড়াচ্ছেন কৃষকেরা।

সেন্ট মার্টিনের আদি বাসিন্দা

নিস্তব্ধ চারদিক, কোলাহল থেকে বহু দূর, তাবুতে আমি আর এক অনুজ, সঙ্গে নুরুল হক। তার বয়স পঞ্চাশ পেরিয়েছে, হালকা ছিপছিপে গড়নের দেহ, চাপা ভাঙা মুখ, আছে হালকা দাড়ি। আমরা গল্পে মজেছি নুরুল হকের সঙ্গে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সখ্যতা বাড়ছে আমাদের। তার কাছ থেকে নানা গল্প শুনছি। তবে আমার সবচেয়ে বেশি আগ্রহ সামুদ্রিক কাছিম নিয়ে। গত ত্রিশ বছর আগে কীভাবে শত শত কাছিম সমুদ্রপাড়ে এসে কাঁকড়ার মতো ঘুরে বেড়াত, সেই গল্প বলছিলেন তিনি।

বর্তমানে তিনি কাছিম সংরক্ষণের সঙ্গেই আছেন। মা কাছিম এলে গর্ত থেকে ডিম সংগ্রহ করে তা সেন্ট মার্টিনের পরিবেশ অধিদপ্তরে পৌঁছে দেওয়াই তার কাজ। আগে প্রাকৃতিকভাবেই ফুটত কাছিমের ডিম। গেল কয়েক দশকে সেই সেন্ট মার্টিনে সেই পরিবেশটাই নেই। তাই কাছিমের ডিমের স্থান হয় কৃত্রিম হ্যাচারিতে। এখন মা কাছিমের আসা এতটাই কমেছে যে হাতের আঙুলেই গোনা যায়।

গত ত্রিশ বছর আগেও শত শত কাছিম সমুদ্র পাড়ে এসে কাঁকড়ার মতো ঘুরে বেড়াত। বিকেল থেকে সকাল অবধি আসত কাছিম।

— নুরুল হক

বলতে গেলে সেন্ট মার্টিনের আদি বাসিন্দা এই সামুদ্রিক কাছিমরাই। যখন এই দ্বীপে আরব বণিকেরা আসা শুরু করেনি, তখন তারাই ছিল সেন্ট মার্টিনের বাসিন্দা। বলা যায়, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ জেগে ওঠার পর থেকেই এই দ্বীপের বাসিন্দা তারা। ডাইনোসরের যুগ থেকে পৃথিবীতে টিকে আছে এই কাছিম। কিন্তু এখন এমন সময় এসে দাঁড়িয়েছে যে সেন্ট মার্টিনের কাছিমরাই উদ্বাস্তু। একটা কাছিম ডিম পাড়তে এলেও বড় করে সংবাদ হয়।

আজকের তাবু বাসের প্রধান কারণ এই কাছিমই। রাতে মা কাছিম আসবে, তাদের এক নজর দেখব বলেই এত আয়োজন। সময় অনুযায়ী বছরের এই সময়টাতে মা কাছিম ডিম পাড়তে আসে। আমাদের অপেক্ষা একটি বারের জন্য সেই দুর্লভ কাছিমকে স্বচক্ষে দেখবার। কাছিম না আসার নানা গল্প শোনালেন নুরুল হক। কীভাবে দ্বীপটা স্থানীয়দের থেকে বহিরাগতদের হয়ে গেল, সেই গল্পও শোনালেন।

সমুদ্রে ফিরে যাচ্ছে অলিভ রিলডি প্রজাতির শিশু কাছিম।

রাতের আঁধারে চিংড়ি ধরা

গল্প চলছে। গল্পে গল্পে এল তার মাছ ধরার কথা। এর মাঝেই আমাদের সঙ্গে যোগ দিল নুরুল হকের মেজ ছেলে সাইফুল ইসলাম। ছেলেও আমাদের সঙ্গে তার বাবার কাছ থেকে বিরাট বিরাট মাছ ধরার গল্প শুনছে। গল্প শুনতে শুনতে আবদার করলাম—আজকে মাছ ধরতে নিয়ে যেতে হবে। তিনি সাইফুলকে বললেন আমাদের মাছ ধরতে নিয়ে যেতে। আমরা হেঁটে রওনা হলাম একটি লেগুনের উদ্দেশে। সময় তখন রাত আটটার মতো।

চিংড়ি ধরছেন সাইফুল।

 

অন্ধকারে পা টিপে টিপে যাচ্ছি জলার কাছে। পাড়জুড়ে বসে আছে সাদা বকের ঝাঁক। আওয়াজ পেতেই ডানা ঝাপটে অন্ধকারে মিলিয়ে গেল বকগুলো। ঠেলা জালে ধরা হবে মাছ, ধরা হবে চিংড়ি। পানিতে নেমেই নিঃশব্দে চলল জাল। মাত্র কয়েক টানেই ধরা পড়ল কেজিখানেক চিংড়ি। আধঘন্টার মধ্যে আমরা ফিরলাম তাবুতে। এর কিছুক্ষণ পরই কলাপাতায় করে আমাদের দেওয়া হলো সিদ্ধ চিংড়ি।

কলা পাতায় পরিবেশন করা সিদ্ধ চিংড়ি।

কুপি লাইটে মিলিয়ন তারকা ডিনার

রাত প্রায় দশটা। তখনও আমরা কাছিমের অপেক্ষায়। জোয়ার তার চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। তাঁবু থেকে মাত্র ১০ ফুট দূরেই ঢেউ ভাঙছে। ভাবছি, এখনই যদি একটা মা কাছিম চলে আসে তবে কেমন হবে। বর্তমানে সেন্ট মার্টিনে জীবিত কাছিম দেখা বিরল ঘটনাই বটে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অলিভ রিডলি ও গ্রিন টারটেল ডিম পাড়তে আসছে। পৃথিবীতে মোট সাত প্রজাতির সামুদ্রিক কাছিমের দেখা পাওয়া যায়। একসময় হকসবিল কাছিমও ডিম পাড়তে আসত এখানে।

এর মধ্যেই আমাদের ডাক পড়ল নুরুল হকের বাসায়, সেখানে আছে রাতের খাবারের আয়োজন। ২০২০ সালে এসেও তার বাড়িতে বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা নেই। বহুদিন আমি এমন বাড়ি দেখিনি। অন্ধকার হয়ে আছে পুরো উঠান। একমাত্র আলো বলতে আকাশে হাজার হাজার তারা। নারিকেল গাছের আড়াল থেকে তারা দেখা—সে এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

নারিকেল গাছের আড়াল থেকে তারার মেলা।

কল চেপে হাত-পা ধুয়ে নিলাম। ঢুকে পড়লাম তার বারান্দায়। বারান্দাটায় সোজা হয়ে ঢোকার মতো অবস্থা নেই, অনেকটা মাথা নুয়ে ভেতরে ঢুকতে হলো। বারান্দা পেরিয়ে ভেতর ঘর, যেখানে থাকেন নুরুল হক। শীতকালে এখানে থাকলেও গরমে থাকেন খোলা বারান্দায়।

ঘরে মিটমিট করে কুপি জ্বলছে। বহুদিন পর কুপি দর্শন। যান্ত্রিক আলোর ভিড়ে ভিন্ন এক আবেদন। ঘরের মেঝেটা মাটির, বেড়াটা বাঁশের। ঘরে ঢুকতেই পাতা হলো মাদুর। মাদুরে বসে অপেক্ষা চলছে খাবারের জন্য। একে একে এলো খাবারের প্লেট, পানি, ভাত, তরকারি।

‘মিলিয়ন তারকা’র কুপি লাইট ডিনার।

সবকিছু পরিবেশন করতেই ভিন্ন আমেজ অনুভব করলাম। হাজার হাজার টাকা খরচ করে শহুরে রেস্তোরাঁয় আমরা ক্যান্ডেল লাইট ডিনার করি, তার বিপরীতে এক ভিন্ন পাওয়া। বসে বসে ভাবছি—এটাকে কত তারকায় ফেলব? পাঁচ তারকা নয়, এটা আমার ‘মিলিয়ন তারকা’র কুপি লাইট ডিনার। এখানে আছে আন্তরিকতা, অশেষ ভালোবাসা। নুরুল হক পাশে বসে বসে খাবার তুলে দিচ্ছেন। আমি দেখছি তার আতিথেয়তা। অসামান্য সেই আপ্যায়ন।

আমাদের জন্য রান্না হয়েছে পেঁয়াজ দিয়ে চিংড়ির ঝোল আর চাপিলা শুটকি দিয়ে শিম-টমেটোর একটি পদ। মমতা নিয়ে বেঁধেছেন নুরুল হকের স্ত্রী। একেবারে লোকাল রান্না, অপূর্ব তার স্বাদ। বেড়ার পাশেই তিনি আড়ালে বসে আছেন। সেন্ট মার্টিনে মেয়েদের বহিরাগত ছেলেদের সামনে আসার রীতি নেই। বলছেন কী লাগবে, না লাগবে; বলছেন আমরা খেতে পারছি কি না। যেন তার ভাই তার বোনের বাড়িতে এসেছে বহুদিন পর।

আমি খাই আর গল্প শুনি নুরুল হকের কাছে। নানা গল্প—কীভাবে তিনি মাছ ধরেন, কীভাবে চলে তার জীবনসংগ্রাম। একটা সোলার লাগানোর ভীষণ শখ তার। আনব আনব করে আনা হয় না, টাকাও মেলে না। টানাপোড়েনের সংসার। এই বছরই একটা সোলার কিনে নেবেন বলেই তার বিশ্বাস। খেতে খেতে কয়েক প্লেট ভাত খেয়ে ফেলেছি। যতটা ভাত খেয়েছি, তার চেয়ে বেশি চিংড়ি খেয়ে ফেলেছি। ধরে আনা চিংড়ির কী অসাধারণ স্বাদ!

সেন্ট মার্টিনের পুরুষরা প্যান্ট পরলে লজ্জা পেত

খাওয়া শেষ হলো, আরও অনেকক্ষণ গল্প হলো কুপির আলোয়। জীবনমুখী নানা গল্প—তিন যুগ আগেও দ্বীপটা কেমন ছিল; সেন্ট মার্টিনের পুরুষরা প্যান্ট পরলে লজ্জা পেত, তারা আজ কীভাবে আধুনিক হয়ে গেল; প্রকৃতির নানা বিনাশের গল্প। শোনালেন তার ছোটবেলায় অন্য জেলেদের বিশাল হাঙর ধরে নিয়ে আসার গল্প। গল্প হতে হতে রাত এগোচ্ছে। নুরুল হকের ঘুমের সময় হয়ে এসেছে। ফজরের আজান দিলে আরেকবার খুঁজে দেখবেন সৈকতে কাছিম ডিম পেড়ে গেছে কি না। আমরা বিদায় নিয়ে তাবুতে ফিরলাম।

তাঁবুতে ফিরে এলাম। ভাটা শুরু হয়ে গেছে। সৈকত ধরে একা একা হাঁটছি। মহাবিশ্বের এক গ্রহের এক দ্বীপের সুনসান সৈকতে দাঁড়িয়ে জীবনকে ভাবছি। তবুও চলছে কাছিমের খোঁজ। মাঝরাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও সেদিন আর কাছিমের দেখা মিলল না। আমরাও সেই দিনের মতো ঘুমিয়ে পড়লাম। সকাল হলে আমরা আবার ছেড়াদ্বীপ যাব।

সকালের নির্জন সৈকত ও কুকুর।

নুরুল হককে আবিষ্কার

পরের দিন সকালে নুরুল হকের ডাকেই ঘুম ভাঙল। তখন পূর্ব আকাশে লাল আভা। সৈকতে মানুষ বলতে আমরা তিনজন আর জনাকয়েক কুকুর। দারুণ স্নিগ্ধ এক সকাল। আরেকটু বেলা বাড়তেই নুরুল হকের বাড়িতে চা-বিস্কুট খাওয়া। এর সুযোগ হলো নুরুল হক সম্পর্কে আরেকটু জানার।

 

সমুদ্রের পাড় ঘেঁষা ছোট্ট ঘরে তিন ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন নুরুল হক। ছেলে-মেয়ে সবাইকে লেখাপড়া শেখাচ্ছেন। মূলত মাছ ধরে ও চাষবাস করে তার জীবন চলে। তার অঢেল সম্পত্তি না থাকলেও আছে শৌখিনতা। তিনি কখনো মাছ কিনে খান না; প্রতি বেলার মাছ সমুদ্র ও জলা থেকে ধরে আনেন।

নুরুল হক, তার মেজ ছেলে সাইফুল ও আমি।

তার বাড়ির আঙিনায় ছোট ছোট খুপরি—সেখানে থাকে মুরগি-কবুতর; আছে ছাগল-গরুও। তার একটি সাদা মোরগ আছে, বিশাল সাইজের। অনেকে সেটা কিনতে চেয়েছেন, কিন্তু তিনি বিক্রি করেননি। মোরগটা তার সন্তানের মতো। মোরগটিকে দেখলে নাকি তার শান্তি লাগে। তার উঠানজুড়ে নারিকেল গাছ; কেউ গেলেই কেটে দেন ডাব।

আছে চাষের জমি। সেখানে লাগানো আছে টমেটো, শসা, লাউ, কুমড়া, ধনিয়া, মূলা শাক, তরমুজ। মৌসুমে ধান লাগান; সেটাতেই মেটে চালের জোগান। গরু, ছাগল, মুরগির বিষ্ঠা দিয়ে করেন জৈব সার—সেটাই ব্যবহার করেন রাসায়নিক সারের পরিবর্তে। এর মাঝেই আমরা রওনা হলাম ছেড়াদ্বীপের উদ্দেশে।

সেখান থেকে ফিরলাম আসরের আজানের পর। আমাদের জন্য রাখা আছে দুপুরের খাবার। আবারও উদরপূর্তি করলাম সেই ভালোবাসা-মাখানো রান্নায়। আজ রাতটা আরও বিশেষ হতে যাচ্ছে, কারণ আজ রাতে দেখা যাবে উল্কাবৃষ্টি। সেই সঙ্গে কপাল ভালো থাকলে দেখা মিলতে পারে কাছিমেরও।

উল্কাবৃষ্টিতে স্নান

সুন্দর একটা সূর্যাস্ত দেখলাম। এক নিমিষেই সন্ধ্যা হয়ে গেল রাত। আমরা চুপচাপ বসে থাকি, অপেক্ষা করি। কাছিম আসবে। জোয়ারের ঢেউ বাড়ছে, ঢেউয়ের গর্জন তাবুর একেবারে কাছে এসে ভাঙছে।

আমরা বসে আছি। এর মাঝেই আমাদের তাবু দেখে খুব আগ্রহ নিয়ে কয়েকজন আসে। এসে নানা প্রশ্ন। আমরা কাছিমের খোঁজে এসেছি শুনে তারা আরও কৌতূহলী হয়ে উঠল। তাদের সঙ্গে এ নিয়ে অনেকক্ষণ গল্প হলো। তারা ফিরে যাচ্ছে, এমন সময় হঠাৎ চিৎকার করে উঠল—“কাছিম! কাছিম!” সঙ্গে সঙ্গে আমরা তাবু থেকে বেরিয়ে পড়লাম। অবশেষে দেখা হতে যাচ্ছে কাছিমের সঙ্গে। মনে সে কী আনন্দ! কিন্তু কাছে গিয়ে হৃদয় ভেঙে খানখান—ওটা কোনোভাবেই কাছিম নয়, ওটা একটা নারিকেলের খোসা। অপেক্ষার প্রহর আরও লম্বা হয়।

 

তাবুতে ফিরে বসেছি পা বালুতে দিয়ে। ঠিক তখনই উত্তর আকাশে আলোকছটা—একটা, তারপর আরেকটা। উল্কাবৃষ্টি। নাসার খবরেই জানতাম আজ দেখা যেতে পারে। কিন্তু এভাবে এত কাছে, এত জীবন্তভাবে—ভাবিনি।

উল্কাবৃষ্টি, তাবু ও নির্জন সৈকত।

চোখ তুলে দেখি—তারা ছুটছে আকাশজুড়ে, একটার পর একটা। দূরে মাছ ধরার নৌকার মিটিমিটি আলো, আর ওপরে জ্বলজ্বলে আকাশ। এই দৃশ্যের সামনে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছিল, পৃথিবীতে এর চেয়ে সুন্দর কিছু নেই।

 

নুরুল হক ভাই চা বানিয়ে আনলেন। আমরা চা খেতে খেতে গল্প করি, হাসি, নিঃশব্দে আকাশ দেখি।

আমরা ততক্ষণ অপেক্ষা করি। আকাশভর্তি তারা, উল্কাবৃষ্টি, সৈকতের বায়োলুমিনেসেন্সের নীল আলো—সব মিলিয়ে এক ভয়ঙ্কর সুন্দর রাত।

 

ধীরে ধীরে জোয়ার থেমে ভাটার টান ধরল। পানি সরে গেল দূরে। ভাটা মানে আজ আর কাছিম আসবে না।

তবু মন বলে, একদিন ঠিকই আসবে মা কাছিম। হয়তো আগামী রাতেই।